মরুভূমির বুকে ভবিষ্যতের শহর! নিওম সিটি কি বদলে দেবে মুসলিম বিশ্বের অর্থনীতি?
একটা শহর।
যেখানে থাকবে না যানজট। থাকবে না ধোঁয়ায় ভরা বাতাস।
গাড়ির বদলে চলবে AI-নির্ভর স্মার্ট সিস্টেম। আর পুরো শহর চলবে আধুনিক প্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানিতে।
শুনতে সিনেমার গল্প মনে হলেও—এটাই বাস্তব। আর সেই বাস্তবের নাম, “নিওম সিটি”।
সৌদি আরব এখন এমন একটি শহর তৈরি করছে, যেটাকে অনেকে বলছেন “ভবিষ্যতের পৃথিবী”। প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্প শুধু একটি শহর নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা।
সবচেয়ে আলোচিত অংশ “The Line”।
একটি দীর্ঘ স্মার্ট সিটি—যেখানে থাকবে না প্রচলিত রাস্তা, থাকবে না বিশৃঙ্খল নগরজীবন। মানুষ থাকবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে, যেখানে AI নিজেই অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করবে।
সৌদি আরব বুঝে গেছে—শুধু তেলের ওপর ভর করে ভবিষ্যৎ ধরে রাখা কঠিন।
তাই এখন তারা প্রযুক্তি, পর্যটন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে।
আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে উঠছে নিওম সিটি।

Image-BBC
বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে। নির্মাণ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, পর্যটন—প্রতিটি খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—বাংলাদেশের জন্য এতে কি আছে? আছে বিশাল সম্ভাবনা।
ইতোমধ্যেই বহু বাংলাদেশি সৌদি আরবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন। আর নিওম সিটির মতো মেগা প্রজেক্টে দক্ষ শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিক্যাল কর্মী ও সার্ভিস সেক্টরে হাজার হাজার মানুষের প্রয়োজন হবে।
মানে, এটা শুধু সৌদির স্বপ্ন না—হতে পারে বহু বাংলাদেশি পরিবারের ভবিষ্যতেরও অংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। শুধু শ্রমিক নয়, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক কাজের চাহিদাও বাড়বে দ্রুত।
আর বাংলাদেশ যদি এখন থেকেই দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারে, তাহলে এই পরিবর্তনের বড় সুবিধাভোগী দেশগুলোর একটি হতে পারে।
নিওম সিটি আসলে একটা শহরের চেয়েও বেশি কিছু।
এটা একটি বার্তা—মধ্যপ্রাচ্য বদলাচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের গতি এবার প্রযুক্তির হাতে।
এখন দেখার বিষয়, মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা এই ভবিষ্যতের শহর সত্যিই কি মুসলিম বিশ্বের নতুন অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে কিনা।

