Thursday, 04 June 2026
বিজ্ঞাপন যোগাযোগ
সাপ্তাহিক । সংবাদ । বিশ্লেষণ - thecompass.media
সঠিক খবর, সঠিক দিক
ব্রেকিং
ইরানের কি পারমাণবিক বোমা আছে? অথবা বানাতে কতটা সময় লাগতে পারে?সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০: মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন মডেলস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকার সহজ উপায়শহুরে জীবনে মানসিক শান্তি খোঁজার পথ: প্রকৃতির সাথে সংযোগ ফেরানোফিফা বিশ্বকাপ বাছাই: এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচের সূচি ঘোষণাবাংলাদেশ ক্রিকেট: আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে উঠে আসার স্বপ্নগণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা: কবে বদলাবে এই চিত্র?তরুণ প্রজন্ম ও মানসিক স্বাস্থ্য: কথা বলতে শেখা জরুরি ইরানের কি পারমাণবিক বোমা আছে? অথবা বানাতে কতটা সময় লাগতে পারে?সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০: মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন মডেলস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকার সহজ উপায়শহুরে জীবনে মানসিক শান্তি খোঁজার পথ: প্রকৃতির সাথে সংযোগ ফেরানোফিফা বিশ্বকাপ বাছাই: এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচের সূচি ঘোষণাবাংলাদেশ ক্রিকেট: আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে উঠে আসার স্বপ্নগণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা: কবে বদলাবে এই চিত্র?তরুণ প্রজন্ম ও মানসিক স্বাস্থ্য: কথা বলতে শেখা জরুরি
আন্তর্জাতিক মতামত (অনুবাদ)

অবশেষে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব ইউরোপের নেতারা — কেন বদলে যাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ?

12 May 2026  ·  sazzad77s@gmail.com
অবশেষে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব ইউরোপের নেতারা — কেন বদলে যাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ?

ইউরোপের রাজনীতিতে এক নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন জার্মান চ্যান্সেলর Friedrich Merz। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সমালোচনা করে তিনি শুধু ব্যক্তিগত মতামত দেননি; বরং ইউরোপীয় নেতাদের ভেতরে তৈরি হওয়া বৃহত্তর এক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এখন ইউরোপের অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেছে—তা ইরান ইস্যু হোক, ইউক্রেন যুদ্ধ হোক কিংবা ইউরোপের নিজস্ব সার্বভৌমত্বের প্রশ্নই হোক।

Chancellor Friedrich Merz speaks at a secondary school in Marsberg, Germany, 27 April 2026. Photograph: Teresa Kroeger/Reuters

ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চিত ও অস্থির নীতিগুলো ইউরোপকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্জের বক্তব্য ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের কাছে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কোনো কার্যকর কৌশল নেই। এমনকি তার মতে, কূটনৈতিক চালচলনে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে “বিব্রত” করেছে।

তবে এই অবস্থান শুধু জার্মানির নয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী Giorgia Meloni-ও সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেছেন।

বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা ইউরোপকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। কারণ এটি ছিল ন্যাটো জোটের একটি অংশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের সরাসরি চ্যালেঞ্জ। একইভাবে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance-এর হাঙ্গেরির নির্বাচনে Viktor Orbán-কে সমর্থন করার প্রচেষ্টাও ইউরোপে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

তবে শুধু এসব ঘটনা নয়, ইউরোপের কঠোর অবস্থানের পেছনে আরও বড় কারণ রয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের নির্ভরতা আগের তুলনায় কমে এসেছে।

ইরান যুদ্ধ ইউরোপকে দেখিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রেরও ইউরোপভিত্তিক সামরিক অবকাঠামোর প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ নির্ভরতা একমুখী নয়। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর ইউরোপের সামরিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এর বড় অংশ এখন ইউরোপীয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে যাচ্ছে।

স্টকহোমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Sipri-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের অংশীদারিত্ব কমে ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস।

ইউক্রেন যুদ্ধেও একই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার পর ইউক্রেনের মূল অর্থনৈতিক সহায়তা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেই আসছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ৬০ শতাংশ সামরিক সরঞ্জাম দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রায় ২০ শতাংশ আসছে ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে।

যদিও গোয়েন্দা তথ্য ও আকাশ প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তবুও ইউরোপীয় নেতারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে ওয়াশিংটনের সহায়তা কমে গেলেও ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়বে না। আর কম নির্ভরশীল ইউক্রেন মানেই কম নির্ভরশীল ইউরোপ।

ইউরোপীয় নেতাদের আরেকটি উপলব্ধি হলো—ট্রাম্পের অনেক হুমকিই শেষ পর্যন্ত বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয় না। মার্কিন কংগ্রেস, আদালত এমনকি ট্রাম্পের নিজস্ব “মাগা” জোটের ভেতর থেকেও প্রতিরোধ বাড়ছে। ফলে ইউরোপে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতো ভয় তৈরি করতে পারছে না।

বরং ইউরোপের সাধারণ জনগণের বড় অংশের কাছে ট্রাম্প অজনপ্রিয় হওয়ায়, তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া ইউরোপীয় নেতাদের জনপ্রিয়তাও বাড়াচ্ছে।

এই পরিবর্তিত মানসিকতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে। ট্রাম্প যদি ইউরোপীয় গাড়িসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে ইউরোপ আগের মতো নীরব থাকবে না। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের মার্কিন পণ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে।

একই সঙ্গে ইউরোপ প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল সেবা এবং কৌশলগত খাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর নীতিও এগিয়ে নিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক এখন আর আগের মতো একতরফা নির্ভরতার জায়গায় নেই। ইউরোপ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে তারা চাইলে ওয়াশিংটনের চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে। ট্রাম্পের “অপরাজেয়” ভাবমূর্তি শুধু আমেরিকাতেই নয়, ইউরোপেও দুর্বল হয়ে পড়ছে। আর সেই কারণেই ইউরোপীয় নেতারা এখন আর আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি রাখার রাজনীতি করতে আগ্রহী নন।

দ্যা গার্ডিয়ানে এই কলাম লিখেছেন Mujtaba Rahman, তিনি হলেন রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Eurasia Group-এর ইউরোপবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

ইংরেজিতে- https://www.theguardian.com/commentisfree/2026/may/12/friedrich-merz-europe-leaders-standing-up-to-trump


আরও পড়ুন